পটুয়াখালী সংবাদদাতা।। জলবায়যু প্রভাবের ফলে হুমকির মুখে বাংলাদেশের সাগরকন্যা কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এখন হুমকির মুখে।প্রতি বছর এ মৌসুমে অমাবস্যা-পূর্ণিমার জোর প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় বালুক্ষয়ে ধ্বংস হয় ‘সাগরকন্যা’ খ্যাত পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা। এরই মধ্যে জোয়ার ও ঢেউয়ের তাণ্ডবে গাছপালাসহ বেশকিছু স্থাপনা বিলীন হয়ে গেছে।
বালুক্ষয় রোধে তিন কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে টিউব বসানোর প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হালিম সালেহী।
জানা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সাগরের উত্তাল ঢেউ নিশ্চিহ্ন করে দিচ্ছে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার স্পটগুলো। প্রতি বছর এ মৌসুমে বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ে কুয়াকাটায়। বালুক্ষয়ের ফলে ১৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ সৈকতটির প্রস্থ জিরো পয়েন্টের কাছাকাছি এসে পৌঁছেছে। বর্তমানে লঘুচাপ আর জোয়ারের প্রভাবে সৈকত নিকটবর্তী গাছ এবং স্থাপনা ধ্বংসের সম্মুখীন হয়েছে।
২০১৯ সালে এক কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে সৈকতে দেশীয় তৈরি জিওটিউব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই সেটি সাগরে বিলীন হয়ে যায়। তবে ভাঙন রোধে ওভেন টিউবের সংখ্যা বাড়িয়ে বসানো হলে রক্ষা মিলবে বলে জানিয়েছেন মেয়র মো. আনোয়ার হাওলাদার।
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব শরীফ বলেন, বন্যা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের এ মৌসুমে ভাঙনের কবল থেকে সৈকতটি স্থায়ীভাবে রক্ষা করতে হবে। এটি না পারলে পর্যটকরা এখানে ভ্রমণের আগ্রহ হারাবেন।
এদিকে, কুয়াকাটা সৈকতের সৌন্দর্য রক্ষায় উদ্যোগ নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। জরুরিভাবে ভাঙন রোধে জিওটিউব ও জিওব্যাগের ব্যবহার করেছে কয়েকটি স্পটে। এ উদ্যোগে সমুদ্রের ভাঙন বন্ধ হয়ে সৈকত ধীরে ধীরে বিস্তার লাভ করবে। এছাড়া রক্ষা পাবে বৃক্ষ ও স্থাপনা।